YouTube এ মিউজিক ভিডিও Re-Upload করে ইনকাম !

আসসালামু আলাইকুম বন্ধুরা। কেমন আছেন আপনারা সবাই? আশা করি ভাল আছেন।

YouTube বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম, যেখানে প্রতিদিন লাখ লাখ ভিডিও আপলোড করা হয়। এ প্ল্যাটফর্মটি কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং অনেকের জন্য এটি আয়ের একটি সেরা উৎস। ইউটিউবে মিউজিক ভিডিও রি-আপলোড করে আয় করা বর্তমান সময়ে একটি প্রচলিত পদ্ধতি হয়ে উঠেছে। যদিও এটি সরাসরি এবং দীর্ঘস্থায়ী উপার্জনের পথ নয়, তবুও সঠিক নিয়ম মেনে চললে এটি হতে পারে একটি উল্লেখযোগ্য আয়ের উৎস। এই আর্টিকেলে আমরা একটি মজার মেথড শিখবো। সেটা হচ্ছে আপনি চাইলে top music artists দের মিউজিক ভিডিও ইউটিউবে কপিরাইট ছাড়া কিভাবে আপলোড করতে পারবেন তা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব।

তো আসুন এই মজার মেথডটা দেখে নেই:

স্টেপ ১ঃ YouTube এ গিয়ে সার্চ  বারের মধ্যে লিখুনঃ যে কোন ফেমাস artist name + “unreleased”

Screenshot 2024 06 04 112249

স্টেপ ২ঃ এবার যেকোনো অনলাইন থেকে ইউটিউব MP3 ডাউনলোডার ওয়েবসাইটে গিয়ে, আপনার সেই মিউজিক ভিডিওটি ডাউনলোড করে নিন ।

Screenshot 2024 06 04 112416

স্টেপ ৩ঃ এবারে এই গানটি কে আবারও Re-upload করে দেন ইউটিউবের মধ্যে তবে আপলোডের সময় নতুন একটি টাইটেল বা নাম দিবেন গানের এবং পাশে unreleased লিখে দিবেন।

আর এই স্টেপগুলোকে বারবার করে যান এবং এভাবে ভালো একটা প্রফিট নিয়ে আসতে পারবেন আপনার চ্যানেলের মাধ্যমে ।

তো এবার আসি এ পদ্ধতিতে ভিডিও আপলোড করলে কি আসলেই মনিটাইজেশন পাওয়া যাবে?

নিচের এই চ্যানেলটিকে দেখুনঃ এই চ্যানেলটি একই পদ্ধতিতে ভিডিও আপলোড করে।

Screenshot 2024 06 04 112740

এবারে আমরা এই চ্যানেলটি https://isthischannelmonetized.com/ এ গিয়ে চেক করব।

দেখুন এটি একটি মনিটাইজড এনেবল চ্যানেল।

Screenshot 2024 06 04 112837

যেহেতু এ গানগুলো কখনো পাবলিশ হয়নি, তাই এগুলো আপলোড করলে কোন কপিরাইট আসে না। আর আপনি চাইলে খুব সহজেই ফেয়ার ইউজের আন্ডারে এই ভিডিওগুলোকে আপলোড করতে পারবেন।

এই বিষয়ে আরো কিছু তথ্য:

ইউটিউবে মিউজিক ভিডিও রি-আপলোড কী?

মিউজিক ভিডিও রি-আপলোড বলতে বোঝানো হয় কোনো মিউজিক ভিডিওকে পুনরায় ইউটিউবে আপলোড করা। তবে এটি কপিরাইটের আওতায় পড়ে, তাই সরাসরি মিউজিক ভিডিও ডাউনলোড করে পুনরায় আপলোড করা আইনগতভাবে সঠিক নয়। কিন্তু কিছু নির্দিষ্ট কৌশল এবং অনুমোদনের মাধ্যমে এটি করা যেতে পারে।

কপিরাইট এবং ইউটিউবের নীতি

ইউটিউবে কোনো মিউজিক ভিডিও আপলোড করতে হলে অবশ্যই কপিরাইটের নিয়ম মেনে চলতে হবে। কপিরাইট আইন লঙ্ঘন করলে আপনার চ্যানেল নিষিদ্ধ হতে পারে, এবং এমনকি আইনি সমস্যাও হতে পারে। তাই কপিরাইট ফ্রি মিউজিক বা পাবলিক ডোমেইনে থাকা মিউজিক ভিডিও রি-আপলোড করতে পারেন। এছাড়াও, কিছু শিল্পী এবং প্রযোজকগণ তাদের ভিডিওগুলি পুনরায় আপলোড করার জন্য অনুমতি প্রদান করেন।

কপিরাইট ফ্রি মিউজিক সোর্স

আপনার যদি কপিরাইট ফ্রি মিউজিক ভিডিও প্রয়োজন হয়, তাহলে কয়েকটি সোর্স ব্যবহার করতে পারেন:

  1. YouTube Audio Library: ইউটিউবের নিজস্ব অডিও লাইব্রেরি থেকে আপনি কপিরাইট ফ্রি মিউজিক ডাউনলোড করতে পারেন এবং তা ব্যবহার করতে পারেন।
  2. Creative Commons: অনেক শিল্পী তাদের মিউজিক ভিডিও Creative Commons লাইসেন্সের আওতায় প্রকাশ করে, যা নির্দিষ্ট শর্ত মেনে পুনরায় ব্যবহার করা যেতে পারে।
  3. Free Music Archive: এটি একটি জনপ্রিয় ওয়েবসাইট যেখানে আপনি কপিরাইট ফ্রি মিউজিক খুঁজে পেতে পারেন।

মিউজিক ভিডিও রি-আপলোড করে ইনকাম করার উপায়

মিউজিক ভিডিও রি-আপলোড করে আয় করার কয়েকটি প্রধান উপায় হলো:

  1. মনিটাইজেশন: ইউটিউবের পার্টনার প্রোগ্রামে যোগ দিয়ে আপনি আপনার ভিডিওগুলি মনিটাইজ করতে পারেন। ভিডিওতে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে আয় করা যায়।
  2. স্পন্সরশিপ: বিভিন্ন ব্র্যান্ড এবং কোম্পানি আপনার চ্যানেলের জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে আপনাকে স্পন্সর করতে পারে।
  3. অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং: ভিডিওর বিবরণে অ্যাফিলিয়েট লিঙ্ক প্রদান করে আপনি বিক্রির একটি শতাংশ আয় করতে পারেন।
  4. প্রোডাক্ট সেলস: নিজের পণ্য বা মিউজিক রিলেটেড প্রোডাক্ট বিক্রি করে আয় করা যায়।

Youtube চ্যানেল গ্রোথের টিপস

চ্যানেল গ্রো করার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস মেনে চলতে পারেন:

  1. কনসিস্টেন্ট আপলোড: নিয়মিত ভিডিও আপলোড করুন। এটি আপনার দর্শকদের সাথে সংযুক্ত থাকতে সাহায্য করবে।
  2. কোয়ালিটি কন্টেন্ট: কনটেন্টের গুণমান বজায় রাখুন। সঠিক এডিটিং, সাউন্ড কোয়ালিটি এবং প্রেজেন্টেশনের দিকে নজর দিন।
  3. সোশ্যাল মিডিয়া প্রমোশন: আপনার ভিডিওগুলি সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন। এতে বেশি দর্শক আকর্ষণ করতে পারবেন।
  4. দর্শকদের সাথে ইন্টারেকশন: কমেন্টে রিপ্লাই দিন এবং দর্শকদের প্রশ্নের উত্তর দিন। এতে দর্শকদের সাথে সম্পর্ক গড়ে উঠবে।
  5. SEO অপ্টিমাইজেশন: ভিডিওর টাইটেল, ডেসক্রিপশন এবং ট্যাগ সঠিকভাবে ব্যবহার করুন। এর ফলে সার্চ রেজাল্টে আপনার ভিডিও সহজেই পাওয়া যাবে।

কনটেন্ট কপিরাইট এভয়েড করার উপায়

কপিরাইট সমস্যা এড়ানোর জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মেনে চলুন:

  1. কপিরাইট ফ্রি মিউজিক ব্যবহার করুন: পূর্বেই আলোচনা করা হয়েছে, কপিরাইট ফ্রি সোর্স থেকে মিউজিক ব্যবহার করুন।
  2. প্রয়োজনীয় অনুমতি গ্রহণ করুন: কোনো মিউজিক ভিডিও ব্যবহারের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকে অনুমতি নিন।
  3. ফেয়ার ইউস নীতি মেনে চলুন: ফেয়ার ইউস নীতির আওতায় কিছু কনটেন্ট ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে এর জন্য সঠিক নিয়ম মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ।

চ্যানেলের আয় হিসাব করা

ইউটিউবে আয়ের পরিমাণ নির্ভর করে ভিউ, ক্লিক এবং বিজ্ঞাপনদাতাদের উপর। গড়ে প্রতি হাজার ভিউতে $1 থেকে $2 আয় করা সম্ভব। তবে এটি পরিবর্তিত হতে পারে বিভিন্ন ফ্যাক্টরের ভিত্তিতে। মনিটাইজেশন চালু থাকলে আপনি ইউটিউব অ্যানালিটিক্সের মাধ্যমে আপনার আয়ের পরিসংখ্যান দেখতে পারেন।

তো যাদের কাছে অনেক অনেক ফ্রি টাইম আছে তারা চাইলে এই মেথডটা ট্রাই করতে পারেন। আজকের পোস্ট এতটুকুই দেখা হচ্ছে অন্য কোন পোস্টে ততক্ষণ পর্যন্ত বাই বাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *